** জাপানে সরকারি ভাবে কোনো দালাল বা খরচ ছাড়াই যাওয়া যাচ্ছে**

ইদানিং জাপানের ওয়ার্কিং ভিসায় লোক নেওয়ার খবর প্রচার হচ্ছে ব্যাপক ভাবে। এটা আমাদের জন্য সুখবর বটে, তবে দালালদের খপ্পরে না পড়ে আসুন সঠিক তথ্য গুলো জেনে নেই –
** জাপানে সরকারি ভাবে কোনো দালাল বা খরচ ছাড়াই যাওয়া যায়*
এ বছর মে মাসে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশ থেকে ওয়ার্কিং ভিসায় জনবল নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন এবং এর ফল স্বরুপ বাংলাদেশ নবম দেশ হিসেবে ওর্য়াকিং ভিসায় লোক নেওয়ার জন্য তালিকা ভুক্ত হয়।
এ গুলো আপানারা গুগলে সার্চ করলেই বিস্তারিত পেয়ে যাবেন।
এখন কথা হচ্ছে কিভাবে কি করবেন?
BMET এর আন্ডারে বাংলাদেশ কোরিয়া টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (BKTTC), এবং প্রবাসী কল্যান ভবন, সহ সরকারি ২৬ টি ট্রেনিং সেন্টারে সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় জাপানিজ ভাষা শেখা যাবে। যদিও কিছুদিনের মধ্যে কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গুলোও অনুমতি পাবে।তবে আপাতত সরকারী ট্রেনিং সেন্টারে প্রশিক্ষন নেওয়াই ভালো হবে।
মাত্র ২০ টাকা ফরম ফিলআপ করে পরীক্ষা দিবেন। এবং পরীক্ষায় উর্ত্তীন হলে ১০০০ টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি।
ভাষা পারদর্শিতা লাভ করার পর। IM Japan এর জন্য আবেদন করবেন। (IM japan) যারা আপনার দক্ষতা পরীক্ষা করে জাপানিজ কম্পানি গুলোতে পাঠাবে। নিচে এর বিস্তারিত দেওয়া হলো:
শিক্ষাগত যোগ্যতা:HSC (সরকারি ট্রেনিং সেন্টার)
(তবে বেসরকারি ট্রেনিং সেন্টার গুলো SSC নিয়ে থাকে যোগাযোগ করে দেখতে পারেন। তবে সেটা ভিন্ন ক্যাটাগরি সম্ভবত )
বয়স: ২০-২৮ (বেসরকারি গুলোতে ৩২ পর্যন্ত নিয়ে থাকতে পারে)
এবং উচ্চতা ছেলেদের ক্ষেত্রে: ৫.৪ ফুট
মেয়েদের: ৫ ফুট
ওজন :৫৫-৬২
** তবে উচ্চতা বেশি হলে ওজন ও বাড়বে **
(BKTTC, Dhaka: Japanese Department):
এর ফেসবুক পেজ থেকে বিস্তারিত আবেদন লিংক ও যাবতীয় অনুসন্ধান দেখে নিবেন।
**জানা মতে ১৪টি ক্যাটাগরি আছে (রেস্টুরেন্ট, কন্সট্রাকশন, নার্সিং, কেয়ার গিভার ইত্যাদি যার যেটাতে স্কিল অনুযায়ী) আর বেতন দেড় লাখ এর উপরে থাকবে। আর থাকা খাওয়া সব মিলিয়ে ৫০-৭০ হাজার এর উপরে হওয়ার কথা না। তার চেয়ে বড় কথা নাম মাত্র খরচে সরকারিভাবে জাপানে যেতে পারছেন এবং দেশেও টাকা পাঠাতে পারবেন খুব সহজেই তাই দেড়ি না করে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিন গর্বিত প্রবাসী হোন আর দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখুন**
***জাপানের তরুন জনগষ্ঠী কমে যাওয়াতে কর্মঠ জনবলের অভাব পূরন করার জন্য জাপান সরকার এই পদ্ধতির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় সাড় তিন লাখ কর্মী নিবে**
***এখন আর ১০ লাখ টাকা খরচ করে স্টুডেন্ট ভিসায় গিয়ে জব করা লাগবে না। নিজ যোগ্যতায় গর্বের সাথে জাপান যাবেন ***
*******তবে মনে রাখবেন জাপান ম্যান পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট অর্জনাইজেশন আপনার স্কিল ভাষা দক্ষতা শরীরক ক্ষমতা সব ভালো ভাবে যাচাই বাছাই করেই তারপর আপনাকে নিবে।
*******************************************************
(জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো এর ওয়েব সাইট থেকে তুলে ধরা হলো)
*** এটি ভাষা প্রশিক্ষন এর পরের ধাপ**
IM Japan (International Manpower Development organization)এর সহায়তায়
বিএমইটি’র মাধ্যমে সরকারিভাবে বিনা খরচে জাপানে টেকনিক্যাল ইন্টার্ণ প্রেরণের পদ্ধতি ও শর্তসমূহ:
Level N5 বা জাপানী ভাষায় পর্যাপ্ত দক্ষতা থাকতে হবে।
ইতোপূর্বে যারা জাপানে কর্মরত ছিলেন তারা আবেদন করতে পারবেন না।
IM Japan কর্তৃক টেকনিক্যাল ইন্টার্ন নিয়োগের চাহিদা পত্র প্রেরণ করা হলে তা বিজ্ঞপ্তি আকারে পত্রিকায় প্রকাশ করা হয় এবং উল্লিখিত শর্তসাপেক্ষে জাপানে টেকনিক্যাল ইন্টার্ন হিসেবে ৫ বছরের জন্য কাজ করতে আগ্রহী প্রার্থীগণকে BMET ওয়েব সাইট হতে আবেদন ফরম ডাউনলোড করে পূরণপূর্বক বিএমইটি কর্তৃক নির্ধারিত ই-মেইল ঠিকানায় প্রেরণ করতে হয়। আবেদিত ফর্মসমূহ যাচাই-বাছাই করতঃ যোগ্যপ্রার্থীদের প্রাথমিকভাবে বাছাই পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য তাদের মোবাইলে ফোনে মেসেজ প্রেরণ করা হয়। মোবাইল ফোনে মেসেজপ্রাপ্ত প্রার্থীগণকে নির্ধারিত সময় ও তারিখে বিএমইটি কর্তৃক মনোণীত কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বর্ণিত কাগজপত্রাদিসহ উপস্থিত থাকতে হয় :
Level N5 বা জাপানী ভাষায় পর্যাপ্ত দক্ষতা সংক্রান্ত মূলসনদসহ ১ সেট ফটোকপি।
শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল সনদপত্রসহ ১ সেট ফটোকপি।
সদ্যতোলা ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
মূল জাতীয় পরিচয়পত্রসহ (National ID) অথবা জন্ম সনদসহ (Birth Certificate)১ সেট ফটোকপি।
জীবন-বৃত্তান্ত (Bio-data)।
উল্লিখিত কাগজপত্র যাচাই বাছাই অন্তে যথাযথ প্রমানিত হলে-
আইএম জাপানের প্রতিনিধি দল কর্তৃক প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত টেকনিক্যাল ইন্টার্নদের পরবর্তীতে গণিত ও জাপানী বর্ণমালা এবং শারীরিক যোগ্যতা (Run, Sit ups and Push ups) বিষয়ক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়।
গণিত ও জাপানী বর্ণমালা এবং শারীরিক যোগ্যতা বিষয়ক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীগণকে পর্যায়ক্রমে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর অধীনস্থ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ৬ মাস মেয়াদী প্রি-ডিপার্চার ট্রেনিং এ অংশগ্রহণ করতে হয়। উক্ত প্রি-ডিপার্চার ট্রেনিং সফলভাবে সম্পন্নকারীগণ টেকনিক্যাল ইন্টার্ন হিসেবে প্রথমে ৩ বছরের চুক্তিতে জাপান গমন করে থাকেন। ৩ বছরের চুক্তি সফলভাবে সম্পন্নকারীগণের চাকুরির মান সন্তোষজনক, কর্মক্ষেত্রে সফলতা এবং কোম্পানীর চাহিদার ভিত্তিতে এ চুক্তি আরো ২ বছরের জন্য নবায়ন করা হবে।
প্রি-ডিপার্চার ট্রেনিং ও থাকা বাবদ কোন খরচ প্রার্থীগণকে বহন করতে হবে না। তবে খাওয়া বাবদ খরচ প্রার্থীগণকে বহন করতে হবে।
জাপানে টেকনিক্যাল ইন্টার্ন হিসেবে নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে কোন অভিবাসন ব্যয় কর্মীদের নিকট হতে গ্রহণ করা হবে না। শুধুমাত্র পাসপোর্ট তৈরি, মেডিক্যাল ফি এবং বহির্গমন ছাড়পত্র সংক্রান্ত ফি কর্মীদের বহন করতে হবে।
*********************************
বি.দ্র.:
***এর আগেও এমন সুযোগ ছিলো ইতালি সহ আরো উন্নত দেশে ওর্য়াক ভিসা নিয়ে যাওয়ার কিন্তু অনেকে নিজের স্বার্থের লোভে অন্যান্য দেশে পালিয়ে যায় তাই দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয় আর শ্রমবাজার গুলোও হাত ছাড়া হয়ে যায় । তাই জাপানে যাওয়ার সুযোগ ঠিকই দিয়েছে সরকার তবে যোগ্যতা সম্মন্ন এবং সঠিক ব্যক্তিকেই তারা বেছে নিবে। আশা করি আমরা দেশের ইমেজ বজায় রাখব।ধন্যবাদ সবাইকে।***
লেখা: Taskin Kabir Evan

One Response

  1. Taskin Kabir Evan January 10, 2020