আপনার স্মার্ট ফোন থেকে এই ২৪ টি এ্যাপ এখুনি সরিয়ে ফেলুন! আপডেট নিউজ

একটি ম্যালওয়্যার বা ক্ষতিকর প্রোগ্রাম গুগল প্লে স্টোরে থাকা কয়েকটি অ্যাপে ছড়িয়েছে। এসব অ্যাপ আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ইনস্টল করা থাকলে তা ব্যক্তিগত তথ্য চুরি ছাড়াও অজান্তে মোবাইলের টাকা শেষ করে করে ফেলতে পারে। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সিএসআইএসের গবেষকেরা এ ধরনের ২৪টি অ্যাপের কথা বলেছেন। তাঁরা পরীক্ষা করে গুগল প্লে স্টোরে থাকা এসব অ্যাপে ‘জোকার’ নামের একটি ক্ষতিকর ম্যালওয়্যারের সন্ধান পেয়েছেন। ইতিমধ্যে এ ম্যালওয়্যারটি প্রায় পাঁচ লাখ ডিভাইসে ছড়িয়েছে।

গবেষকেরা বলেন, জোকার নীরবে বিভিন্ন বিজ্ঞাপনভর্তি ওয়েবসাইটের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং মোবাইল থেকে এসএমএস, কনটাক্ট লিস্ট ও ডিভাইসের নানা তথ্য হাতিয়ে নেয়।

জোকার ম্যালওয়্যারটি বিশ্বের ৩৭টি দেশে আক্রান্ত অ্যাপের মাধ্যমে ছড়িয়েছে। এশিয়ার বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশে জোকার ম্যালওয়্যার আক্রান্ত ডিভাইস রয়েছে।

অ্যাপ্লিকেশনগুলোর নাম জেনে নিন:

১. বিচ ক্যামেরা ৪.২
২. মিনি ক্যামেরা ১.০.২
৩. সার্টেন ওয়ালপেপার ১.০২
৪. রেডওয়ার্ড ক্লিন ১.১.৬
৫. এজ ফেস ১.১.২
৬. অল্টার মেসেজ ১.৫
৭. সবি ক্যামেরা ১.০.১
৮. ডিক্লেয়ার মেসেজ ১০.০২
৯. ডিসপ্লে ক্যামেরা ১.০২
১০. র‍্যাপিড ফেস স্ক্যানার ১০.০২
১১. লিফ ফেস স্ক্যানার ১.০.৩
১২. ব্রড পিকচার এডিটিং ১.১.২
১৩. কিউট ক্যামেরা ১.০৪
১৪. ড্যাজল ওয়ালপেপার ১.০. ১১
১৫. স্পার্ক ওয়ালপেপার ১.১. ১১
১৬. ক্লাইমেট এসএমএস ৩.৫
১৭. গ্রেট ভিপিএন ২.০১
১৮. হিউমার ক্যামেরা ১.১.৫
১৯. প্রিন্ট প্ল্যান স্ক্যান ১.০৩
২০. অ্যাডভোকেট ওয়ালপেপার ১.১.৯
২১. রুডি এসএমএস মড ১.১
২২. ইগনাইট ক্লিন ৭.৩
২৩. অ্যান্টিভাইরাস সিকিউরিটি-সিকিউরিটি স্ক্যান, অ্যাপ লক ১.১.২
২৪. কোলাট ফেস স্ক্যানার ১.১.২

 

এখন জেনে নিই ম্যালওয়্যার (Malware) কি?

ম্যালওয়্যার (Malware) হল ইংরেজি malicious software (ক্ষতিকর সফটওয়্যার) এর সংক্ষিপ্ত রূপ। এ হল একজাতীয় সফ্‌টওয়্যার যা কম্পিউটার অথবা মোবাইল এর স্বাভাবিক কাজকে ব্যহত করতে, গোপন তথ্য সংগ্রহ করতে, কোনো সংরক্ষিত কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ব্যবস্থায় অবৈধ অনুপ্রবেশ করতে বা অবাঞ্ছিত বিজ্ঞাপন দেখাতে ব্যবহার হয়। 1990 সালে Yisrael Radai ম্যালওয়্যার শব্দটি ব্যবহারে আনেন। ইতিপূর্বে এই জাতীয় সফ্‌টওয়্যারকে কম্পিউটার ভাইরাস বলা হোতো। ম্যালওয়্যার ছড়িয়ে পড়ার প্রথম শ্রেনী হল পরজীবি প্রকৃতির সফ্‌টওয়্যার অংশবিশেষ যারা কোনো এক্সিকিউটেবল্‌ ফাইলের সঙ্গে নিজেদের জুড়ে নেয়। এই অংশ হতে পারে কোনো মেশিন কোড যা সংক্রমিত করতে পারে মেশিনের কোনো অ্যাপ্লিকেশন্‌ , ইউটিলিটি, সিস্টেম পোগ্রাম, এমনকি মেশিন চালু হওয়ার জন্য অত্যাবশ্যক কোনো কোড কে। ম্যালওয়্যার সংজ্ঞাত হয় তার হানিকারক উদ্দেশ্য দ্বারা। এরা কম্পিউতার ব্যবহারকারীর স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করে। যদি কোনো সফ্‌টওয়্যার তার অক্ষমতার কারণে অনিচ্ছাকৃতে কম্পিউটারের কোনো অসুবিধা সৃষ্টি করে সেক্ষেত্রে তাকে ম্যালওয়্যার বলা চলেনা।

 

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো অনলাইন (১০/০৯/২০১৯),   উইকিপিডিয়া