fbpx
Aug 28, 2019
3376 Views

নতুন ইউটিউবারদের জন্য ইউটিউবে সফল হওয়ার কয়েকটি কার্যকরী ধাপ সমূহ

Written by

একটা গল্প বলি, তিনজন লোক একবার পারস্য দেশে ভ্রমনে গেল, সেখানে মরুভূমীতে এক জাদুকর তাদের তিনজনকে কিছু বীজ দিল এবং বলল এই বীজ রোপন করে যত্ন নিতে তবেই এই বীজের জাদুকরী ফলাফল দেখতে পাবে। তারা তিনজন দেশে ফিরে আসার পর প্রথমজন তার বীজগুলি বাড়ির আঙ্গিনায় ছিটিয়ে দিল কিন্তুু তার ব্যাস্ততার জন্য সেই বীজগুলির আর যত্ন নেওয়া হলো না ফলে সেই বীজ থেকে আর গাছ জন্মালো না। দ্বিতীয়জন বীজগুলি তার বাড়ীর পিছনে পরিত্যক্ত জমি পরিস্কার করে সেখানে বীজ বপন করলো, সে নিয়মিত সেই বীজে পানি দিত, সার দিত এভাবে বেশ কিছুদিন যাবার পর বীজ থেকে গাছ জন্মালো। এরপর সে নিয়মিত গাছটির পরিচর্যা করতে থাকলো, কিন্তুু দ্বিতীয় ব্যাক্তি লক্ষ্য করলেন সে গাছটির অনেক যত্ন নিচ্ছে কিন্তুু গাছটি খুব ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে এই দেখে তিনি হতাশ হয়ে গাছটির পরিচর্যা বন্ধ করে দিলেন। ফলে গাছটিও আর বড় হলো না ও পরিচর্যার অভাবে গাছটি একসময় মরে গেল। তৃতীয়জন বীজগুলি বপন করার জন্য সুন্দর একটি জমি প্রস্তুত করলো তারপর সেই জমিতে বীজগুলি রোপন করলো, সে নিয়মিত বীজগুলিতে পানি দিত সার দিত এভাবে বেশ কিছুদিন যাবার পর বীজ থেকে গাছ জন্মালো। গাছ জন্মানোর পরে সে আরো ভালো করে গাছটির পরিচর্যা করতে লাগলো, পোকা দমনের জন্য স্প্রে করতো, নিয়মিত আগাছা পরিস্কার করতো। এক পর্যায়ে তৃতীয় ব্যাক্তিটিও লক্ষ্য করলেন সে গাছটির অনেক যত্ন নিচ্ছে কিন্তুু গাছটি খুব ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে এই দেখে তিনি কিন্তু হতাশ হলেন না বরং ধৈর্য ধরে গাছটির পরিচর্যা চালিয়ে যেতে থাকলেন। এইভাবে গাছটি বেশ বড় হতে থাকলো কিন্তু গাছটিতে কোন ফুল বা ফল দেখা যাচ্ছিল না। এর মধ্যে তৃতীয় ব্যাক্তিটি একদিন খেয়াল করলেন কে যেন তার গাছের অনেকগুলো ডাল ভেঙ্গে নষ্ট করে দিয়েছে তৃতীয় ব্যাক্তিটি এটা দেখে খুব কষ্ট পেল কিন্তু তিনি আবার সেই ভাঙ্গা স্থানগুলোকে গোবর দিয়ে প্রলেপ দিয়ে দিলেন যেন গাছের ক্ষতগুলো সেরে ওঠে। এর এক বছর পর কোন একদিন বিকেলে এক ঝড়ে কয়েকটি গাছ সম্পূর্ণ ভেঙ্গে গেল কয়েকটি গাছ পুরো শিকড়সহ উপড়ে গেল, শুধু মাত্র একটি গাছ ভালো অবস্থায় ছিল। এতগুলো গাছ একসাথে নস্ট হয়ে যাওয়ায় তৃতীয় ব্যাক্তিটি খুব ভেঙ্গে পরলো, তবুও নিজেকে সান্তনা দিলো যে একটা গাছতো এখনো আছে এবং সে একটি লক্ষ্য স্থির করলো যে এই অবশিষ্ট গাছটাকেই সে বড় করে তুলবে। এইভাবে সে আরো দুই বছর বিরামহীনভাবে গাছটির পরিচর্যা করে গেল। একদিন ভোরবেলায় লোকটি খেয়াল করলো গাছটিতে কয়েকটি ফুল ফুটেছে এটা দেখে সে খুব খুশী হলো, ফুল ধরার কয়েকদিন পর সে দেখলো তার গাছে একটি ফল ধরেছে এবং ফলটির রং সোনালী, সে ফলটির কাছে গেল এবং ফলটি ধরে বুঝতে পারলো যে এটি কোন সাধারন ফল নয় এটি সম্পূর্ণ সোনায় তৈরি একটি ফল। তৃতীয় ব্যাক্তিটি আনন্দে কেঁদে উঠলো কারন তার এতদিনের পরিশ্রম আজ সার্থক হয়েছে।

গল্পটি একটি উপমা মাত্র, ইউটিউবে নতুন অনেকেই আসে কেউ প্রথম ব্যাক্তির মত খুব তারাতারি বিদায় নেয়, কেউবা আবার ৩-৪ মাস চেস্টা করে দ্বিতীয় ব্যাক্তির মত রনে ক্ষান্ত দেয়, সফল হতে গেলে আপনাকে গল্পের তৃতীয় ব্যাক্তিটির মত হতে হবে। চলুন এবার দেখে নেয়া যাক কোন বিষয়গুলো জানা জরুরীঃ

ভিডিও বানানের প্রতি আগ্রহ: আপনি নিজেকে একটা প্রশ্ন করেন শেষ কবে আপনি মোবাইল বা ক্যামেরা দিয়ে ভিডিও করেছেন? আপনার যদি ভিডিওগ্রাফীর প্রতি ভালোলাগা থাকে তবে আপনি ইউটিউবে আসুন। অন্যরা ইউটিউব থেকে টাকা ইনকাম করছে তাই দেখে আপনিও ইউটিউবে আসলেন তবে ইউটিউবে আপনার সফল হবার সম্ভবনা কম। ভিডিও কন্টেন্ট বানানো একটি ক্রিয়েটিভ কাজ এই কাজ সবার ভালো লাগে না, ভিডিও কন্টেন্ট বানাতে যদি আপনার আগ্রহ থাকে তবে আপনি সফল হতে পারবেন। আমি অনেক লোক দেখেছি যারা নিজের ফেস ইউটিউবে দেখাতে সংকোচ বোধ করে। আবার এমনও কয়েকজনকে দেখেছি তারা তাদের নিজের ভয়েস শুনে লজ্জা পায়। আমি নতুন ইউটিউবারদের বলবো ভিডিও কন্টেন্ট বানাতে যদি আপনার আগ্রহ থাকে তবে সংকোচ বা লজ্জা করার কিছু নেই, প্রথম প্রথম হয়ত একটু সংকোচবোধ হবে কিন্তু রেগুলার প্রাকটিস করতে থাকলে সংকোচবোধ দূর হয়ে যাবে।

একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে ভিডিও আপলোড করা বা নির্দিষ্ট নিশ নিয়ে কাজ করা: আপনি একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর চ্যানেল বানাতে পারলে বা নির্দিষ্ট নিশ নিয়ে কাজ করলে ভালো করবেন, কারন আপনি যদি আপনার চ্যানেলে আজকে এক বিষয়ে কালকে আরেক বিষয়ে ভিডিও দেন তাহলে আপনি কাজের ধারাবাহিকতা পাবেন না আর অডিয়েন্সও এতে বিরক্ত হয়। তাই নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর কাজ করুন ভালো ফলাফল পাবেন। হেলথ নিয়ে কাজ করলে শুধু হেলথের ভিডিও আপলোড করুন এর ফলে আপনার অডিয়েন্সের একটি বেজ তৈরী হবে আর নির্দিষ্ট একটি বিষয়ের উপর একটি চ্যানেল দাঁড়িয়ে গেলে সেই একটি চ্যানেল দিয়ে আরো কয়েকটি চ্যানেল দাঁড় করিয়ে ফেলতে পারবেন।

নিয়মিত ভিডিও বানানো: ইউটিউবে সফলতা চাইলে যে কাজটি না করলেই নয় সেটি হচ্ছে নিয়মিত ভিডিও আপলোড করা। আপনি একটি নির্দিষ্ট সময়ে রুটিন করে ভিডিও আপলোড করুন । আপনি চেষ্টা করুন যেন প্রতি দিন কমপক্ষে ১টি করে হলেও ভিডিও আপলোড করতে। আর ভিডিও আপলোড করার একটি সময় নির্ধারণ করুন যদি বাংলাদেশের কোন কন্টেন্ট নিয়ে কাজ করেন তাহলে দিনের বেলা ভিডিও আপলোড করুন আর যদি দেশের বাহিরের কন্টেন্ট নিয়ে কাজ করেন তাহলে রাতে ভিডিও আপলোড করতে পারেন। কিন্তু অবশ্যই চেষ্টা করবেন ভিডিও পাব্লিশ করার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে।

ভিডিও প্রোমোট করা: আপনি হয়ত রেগুলার ভিডিও পাব্লিশ করছেন কিন্তু শুধু রেগুলার ভিডিও পাব্লিশ করলেই হবে না সেই ভিডিওগুলোকে প্রোমোট করতে হবে। কারন আপনার ভিডিও সম্পর্কে মানুষ যত বেশী জানবে ততই আপনার ভিডিওর ভিউ বাড়বে। ভিডিওতে ফ্রি ভিউয়ার আনার সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া, আপনি ফেসবুক, টুইটার, ইত্যাদি সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনার ভিডিও গুলি শেয়ার করতে পারেন এর ফলে আপনি বেশ ভালো ভিউয়ার পাবেন। সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়াও ফ্রিতে অর্গানিক ভিজিটর আনার বেশ কিছু মাধ্যম আছে সেটা নিয়ে পরবর্তীতে একটা পোস্ট করবো।

কাজ করে যাওয়া: আমার মতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে এটি, নতুন ইউটিউবাররা বেশিরভাগ ঝরে পরে এই কারনে, কারন তারা একটা পর্যায়ে হতাশ হয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়। অনেক নতুন ইউটিউবার তিন চার্ মাস কাজ করে যখন দেখে যে সফলতা পাচ্ছে না তখনই তারা ইউটিউবকে বিদায় জানায়, আবার অনেক নতুন ইউটিউবার একের পর এক মানহীন ভিডিও দিতে থাকে যার ফলে ভিউয়ার তেমন পায় না তখন হতাশ হয়ে আর কাজ করে না। আমি অনেক ইউটিউবার দেখেছি যারা প্রচুর ভিডিও আপলোড করেছে এখনো সফল হতে পারে নাই কিন্তু হাল ছাড়ে নাই এখনও কাজ করে যাচ্ছে, আবার আর একজনকে দেখেছি সে ২০১৯ সালটাকে টার্গেট করেছে যে ২০১৯ সালের মধ্যে ৫০০ ভিডিও বানাবে। নিয়মিত কাজ করে গেলে একটা সময়ে কোয়ালিটি কন্টেন্ট বানানো নিজেই শিখে ফেলতে পারবেন।

Article Categories:
youtube marketing

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *