আপাতদৃষ্টিতে ব্লগ এবং ফোরামকে এক মনে হলেও এ দুয়ের মধ্যে রয়েছে কিছু মৌলিক পার্থক্য। যেমন, ব্লগ মূলত একজন মানুষের মুক্তকণ্ঠে কথা বলার একটি উন্মুক্ত স্থান। এখানে একজন ব্লগার তার নিজের ইচ্ছেমতো যেকোন বিষয়ে লিখতে পারে। এখানে সে লিখতে পারে তার দেশভাবনা, তার চিন্তাধারা, তার মুক্তমনের কথা, কিংবা শুধুই নিজের জীবনী। এখানে তার ব্লগের ভিজিটররা তাদের মতামত ব্যক্ত করতে পারেন। এই মতামত ইচ্ছে করলে সংশ্লিষ্ট ব্লগার মুছেও ফেলতে পারেন, রাখতেও পারেন। এটা পুরোপুরিই নির্ভর করে ঐ ব্লগারের স্বাধীন ইচ্ছার উপর। অন্যদিকে একটি ফোরাম হচ্ছে একটি আলোচনা বোর্ডের মত। এখানে নির্দিষ্ট কিছু বিভাগ থাকবে যেখানে আপনি সংশ্লিষ্ট যেকোন বিষয়ে আলোচনা শুরু করতে পারেন। এটি একটি উন্মুক্ত বিতর্ককেন্দ্র বলা যেতে পারে। এখানে থাকতে পারে হাজারো মানুষের হাজারো মন্তব্য। এছাড়া ফোরামে উত্থাপিত প্রত্যেকটি বিষয়ের একটি থ্রেড থেকে যায়। অর্থাৎ, একটি ফোরামকে তুলনা করা যেতে পারে একটি বিতর্কভিত্তিক সাইট হিসেবে যেখানে একটি ব্লগকে তুলনা করা যেতে পারে ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক জার্নাল, চিন্তাধারা, সংবাদ কিংবা স্রেফ জার্নাল।
ব্লগ এখন অতি সহজলভ্য একটি জিনিস। আপনি চাইলে দু’তিনটি ক্লিকের মাধ্যমেই একটি ব্লগ করে তুলতে পারেন ওয়ার্ডপ্রেস কিংবা এজাতীয় ফ্রি ব্লগিং প্লাটফর্মে। কিন্তু আপনি কি জানেন কোনরকম টেকনিক্যাল নলেজ ছাড়াই আপনি পুরো একটি ফোরামও গঠন করে ফেলতে পারেন?

হ্যাঁ, লিফোরা নিয়ে এসেছে আপনার জন্য সেই সুবিধা। লিফোরাতে আপনি চাইলে বিনামূল্যে সেট-আপ করে নিতে পারবেন একটি নিজস্ব ফোরাম। লিফোরা ফোরামের রয়েছে আকর্ষণীয় কিছু টেমপ্লেট, সহজ কাস্টোমাইজেশন, অডিও ভিডিও ইত্যাদি মিডিয়া সাপোর্ট, আরএসএস ফিড সুবিধা, মডারেশনের সুবিধা, স্প্যাম ব্লকিং টেকনোলজি, লেখার জন্য WYSIWYG এডিটরসহ আরো বেশ কিছু আকর্ষণীয় ফিচার। আপনি লিফোরা ফোরামে ফোরাম হোস্ট করলে আপনার ফোরামের সদস্যদের আপনি সহজেই নিউজলেটার বা ইমেইল পাঠাতে পারবেন। এছাড়াও রয়েছে ব্যবহারবান্ধব অ্যাডমিন প্যানেল যা আপনাকে বুঝতেই দেবে না যে আপনি কত জটিল কোডের কাজ অনায়াসে বিনা পরিশ্রমে করে যাচ্ছেন।

এখানে ক্লিক করে আপনি লিফোরায় রেজিষ্ট্রেশন করতে পারেন। রেজিষ্ট্রেশনের সহজ কয়েকটি ধাপ পেরিয়েই আপনি পেয়ে যাবেন আপনার ফোরাম তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় টুলস যেমন টেমপ্লেট, কাস্টোমাইজেশন টুল, বন্ধুদেরকে আমন্ত্রণ করার টুল ইত্যাদি ইত্যাদি।



লক্ষ্যণীয়ঃ ফোরাম মূলত তৈরি করা হয়ে থাকে একটি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের একত্র করা ও তাদেরকে আলোচনায় অংশ নেয়ার সাহায্যার্থে। ব্যক্তিগত কাজে (যেমন ব্লগের বিকল্প হিসেবে) ফোরাম হোস্ট করা বোকামী। কারণ ফোরাম তৈরিই হয় এর সদস্যদেরকে লেখা পোস্ট করার সুবিধার্থে। সুতরাং আপনার ছোটখাট সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের একত্র করতে আপনি একটি ফোরাম ডেভেলপ করতে পারেন। আর যদি কোডিংয়ের জটিলতায় যেতে না চান, তাহলে লিফোরা তো আছেই।
উল্লেখ্য, সহজ, আকর্ষণীয় ও ব্যবহারবান্ধবতার জন্য লিফোরা ফোরাম ব্রিটিশ ব্রডকাষ্টিং করপোরেশন (বিবিসি)তে ফিচার করা হয়েছিল।





আমিনুল ভাই দারুন লিখেছেন। আর রিফোরা ব্যবহার করে দেখলাম এটা অন্য্যন্য ফোরাম সফট থেকে অনেক আলাদা।
দারুন…খুব ভাল
ভাই সজীব,
দারুন লিখেছেন। এরকম টিউনগুলোর প্রত্যাশায় প্রতিদিন লগইন করি।
ভাই, আমি একটা কথা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি, আর সেটা হলো কিছু সৃষ্টির চেয়ে সেটাকে রক্ষা করা বেশি কঠিন। আপনি আমাদেরকে ফোরাম বানানো শেখালেন। মিখলাম। নিজে হয়তো চেষ্টা করে বানালাম নিজের ফোরাম, জনপ্রিয় করার জন্য বন্ধুদের ইনভাইট করলাম। কিন্তু এভাবে আর কতদিন চলে ???
আমি ব্যক্তিগত ভাবে projectw, warezws এরকম আরও অসংখ্য ফোরামের সাহায্য নেই প্রতিদিন, কাজের সফ্টওয়্যার নামানোর জন্য, আর আজকে যখন আমাদের সামনে আপনি ফোরাম বানানোর পথ খুলে দিলেন, তাহলে চলুননা, এক কাজ করি, আসুন আমরা টেকটিউনাররা মিলে নিজেদের একটা ফোরাম তৈরি করে চালু করি, দেখি কেমন হয় ব্যপারটা !!!
আপনি, আমি, আমরা প্রতিদিন যেভাবে অসংখ্য টিউন লেখি, সেভাবে যদি প্রতিদিন ফোরামের জন্য একটা করে আর্টিকেল লিখি, আমরা কি পারবোনা, নিজেদের তৈরি করা একটা দেশী ফোরাম খুলতে ??? বলুন, নিজের কাছে কেমন লাগবে নিজেদের তৈরি ফোরামের মর্ডারেটর হতে ? আমরা রেপিডশেয়ারের একাউন্টের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরি, চলুন চেষ্টা করে দেখি, নিজেদের ফোরাম থেকে একটা ফ্রি একাউন্ট ক্রিয়েট করতে পারি কিনা !!!
আপনার জবাবের অপেক্ষায় রইলাম, শুধু এক পা এগিয়ে আসুন, আপনি সকল টেকটিউনারদের হাত নিয়ে আসবো আপনার কাছে।
যে কোন প্রশ্ন থাকলে zicobaby@gmail.com -এ করতে পারেন।
ধন্যবাদ।
ভালই বলেছেন। দারুন টিপস!!