ওয়েবসাইট তৈরির কাজটি সহজ মনে না হলেও, কিছু সফটওয়্যার বরাবরই আপনার সব কঠিন কাজকে সহজে করার প্রতিশ্রুতি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এরই মধ্যে সফল একটি সফটওয়্যারের নাম এডোবি ড্রিমওয়েভার। এটি একটি ওয়েব ডেভেলপমেন্ট সফটওয়্যার, যার মাধ্যমে আপনি খুব সহজ ও দ্রুত তৈরি করতে পারেন আপনার ব্যক্তিগত কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট, সুন্দর করে, আকর্ষণীয় ডিজাইনে। আপনাকে সহজে ওয়েবসাইট তৈরি করার সুবিধা দিয়ে আসছে এডোবি ড্রিমওয়েভার ১৯৯৭ সালের নভেম্বর থেকে। একে একে নতুন নতুন সংস্করণ প্রকাশ হয়েছে ড্রিমওয়েভারের। ওয়েব ডেভেলপারদের মন কেড়ে নিতে সক্ষম হয়েছে এডোবির ওয়েব ডেভেলপমেন্ট সফটওয়্যার, ড্রিমওয়েভার।সম্প্রতি ড্রিমওয়েভার সিএস ৪ এর বেটা সংস্করণ প্রকাশ করেছে এডোবি সিস্টেমস। ওয়েব ডেভেলপারদের জন্য আরো আকর্ষণীয় কিছু সুবিধা সংযুক্ত করে, ব্যবহারবান্ধব ইন্টারফেস তৈরি করে বিশ্বব্যাপি দক্ষ অদক্ষ সকল ওয়েব ডেভেলপারদেরকে চমকে দিতে ডেভেলপিংয়ে থাকা এডোবি ড্রিমওয়েভার সিএস ৪ এর পরীক্ষামূলক সংস্করণ ইন্টারনেটে ছেড়েছে এডোবি। এর কোডনেম দেয়া হয়েছে Stiletto। এতে করে আপনি সিএস ৪ বাজারে আসার আগেই এর স্বাদ গ্রহণ করতে পারেন।
আমরা সবাই জানি বর্তমানে খুব কমপ্লেক্স ওয়েব ডেভেলপ হয়ে থাকে। এসব জটিল সাইট ডেভেলপিংয়ে ডেভেলপারদেরকে সাধারণত কোডিংয়ের সাহায্য নিতে হয়। কিন্তু ড্রিমওয়েভারের লক্ষ্য হচ্ছে কোডিং ছাড়া সহজে ও দ্রুততর সময়ে ওয়েব নির্মাণের সুবিধা দেয়া। ওয়েবসাইট তৈরির মাত্রা যেহেতু পরিবর্তন হয়েছে, তাই পরিবর্তিত হতে যাচ্ছে ওয়েব নির্মাণের সফটওয়্যারও। অর্থাৎ, এডোবি ড্রিমওয়েভারও। সিএস ৪ তৈরির লক্ষ্যে এডোবি ড্রিমওয়েভারের প্রোডাক্ট টীম বহু ডিজাইনার ও ডেভেলপারদের কাজ লক্ষ্য করেছে। তারা বোঝার চেষ্টা করেছে ওয়েব নির্মাণে কী ধরণের পরিবর্তন এনেছেন ডেভেলপাররা। মাত্র কয়েক বছরে ওয়েব জগতে আকাশ-পাতাল পরিবর্তন লক্ষ্য করে এডোবি বুঝতে পারে যে ওয়েব ডেভেলপিং টুল-এও এবার বিরাট একটি পরিবর্তন আনতে হবে। তারই ফসল হতে যাচ্ছে এডোবি ড্রিমওয়েভার সিএস ৪। বর্তমানে এর বেটা সংস্করণ পাওয়া যাচ্ছে। নির্মাতারা মূল সফটওয়্যার বাজারে ছাড়ার আগে পরীক্ষামূলক এই সংস্করণটি বাজারে ছাড়েন বাগ-টেস্টিং ও ইউজার ফিডব্যাকের জন্য। সুতরাং আপনি আর অপেক্ষা করছেন কেন? এখনই এখান থেকে ডাউনলোড করে নিজেকে পরিচিত করিয়ে নিন নতুন প্রজন্মের ওয়েব ডেভেলপিং সফটওয়্যার, এডোবি ড্রিমওয়েভার সিএস ৪ এর পরীক্ষামূলক সংস্করণের সাথে। তার আগে আসুন এক নজরে দেখে নেয়া যাক কী কী পরিবর্তন ও নতুন ফিচার সংযুক্ত হয়েছে সিএস ৪ এর বেটা সংস্করণে।

ওয়ার্কস্পেস কনফিগারেটর
ড্রিমওয়েভার সিএস ৪ বেটাতে কাজ শুরু করলে সর্বপ্রথম আপনার দৃষ্টি কেড়ে নিবে এর নতুন ফিচার ওয়ার্কস্পেস কনফিগারেটর। এই ওয়ার্কস্পেস কনফিগারেটর আপনাকে কাজ করতে দিবে ঠিক সেই ওয়ার্কস্পেসে বা সেই পরিবেশে, যেই টাস্কে আপনি কাজ করতে চাচ্ছেন বা করছেন। এছাড়াও আপনি চাইলে আপনি নিজেও নিজের পছন্দমতো ওয়ার্কস্পেস তৈরি করে নিতে পারেন।

[ছবিঃ ওয়ার্কস্পেস ক্রিয়েটর। ক্যাপশনঃ ড্রিমওয়েভার সিএস ৪ বেটাতে বহুল ব্যবহৃত বেশ কিছু ওয়ার্কস্পেস সংযুক্ত করা থাকলেও, আপনি চাইলেই নিজের ইচ্ছেমতো ওয়ার্কস্পেস ক্রিয়েট করতে পারবেন]
লাইভ প্রিভিউ মোড
drop-down, sliding panels, Ajax-driven interface elements ইত্যাদি এখনকার ওয়েবসাইটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এছাড়াও JavaScript-driven ইন্টারইন্টার্যাক্টিভিটিও বছরকয়েক ধরে খুব জনপ্রিয়। ড্রিমওয়েভার সিএস ৪ বেটার লাইভ প্রিভিউ মোড আপনাকে আপনার তৈরি সাইটের প্রিভিউ দেখার সুযোগ দিবে। লাইভ প্রিভিউ ওয়েবকিট রেন্ডারিং ইঞ্জিন ব্যবহার করে যা আপনাকে ঠিক একটি ব্রাউজারের মতই প্রিভিউ দেখাবে। এছাড়াও আপনি ড্রিমওয়েভারের মধ্যে থেকেই আপনার পেজকে ইন্টার্যাক্ট করতে পারবেন নতুন লাইভ প্রিভিউ মোড ব্যবহার করে।

জাভাস্ক্রিপ্ট এক্সপার্টদের জন্য এটি একটি দারুণ ফিচার। কোন ব্রাউজার দ্বারা পরীক্ষা করা ছাড়াই আপনি আপনার তৈরি পেজে কী কী সমস্যা আছে তা দেখতে পারেন ও ডিবাগ তথা বাগ ফিক্স করতে পারেন।
রিলেটেড ফাইল বার
ক্রিটিক্যাল ভিজ্যুয়াল কন্টেক্সট না হারিয়ে রিলেটেড ফাইল এডিট করার সুবিধা দিতে নতুন ড্রিমওয়েভার সিএস ৪ বেটায় সংযুক্ত করা হয়েছে রিলেটেড ফাইল বার যা আপনার বর্তমান পেজের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল পেজের তালিকা দেখাবে। রিলেটেড ফাইলগুলোর মধ্যে সুইচ করতে পারবেন আগের চেয়ে সহজে, দ্রুত ও স্বাচ্ছন্দ্যে এই রিলেটেড ফাইল বার ব্যবহার করে। রিলেটেড ফাইল বার অবস্থান করে ডকুমেন্ট ফাইলের ঠিক নিচে।

ফটোশপ থেকে ছবি পেস্ট করা
ফটোশপ থেকে এখন আপনি ড্র্যাগ করে ড্রিমওয়েভারে তৈরি ওয়েবপেজে রাখতে পারেন। এছাড়াও আপনি অরিজিনাল PSD এর সাথে ড্রিমওয়েভারের ওয়েবপেজের একটি লাইভ লিংক মেইনটেইন করতে পারেন। এর সুবিধা হচ্ছে এই যে, যখনই আপনি ফটোশপে ঐ ইমেজটি এডিট করে পরিবর্তন করবেন, ড্রিমওয়েভারও আপনার জন্য পরিবর্তিত ছবিটি আপনার পেজে স্থানান্তর করে নিবে। অর্থাৎ, এখানে আপনি একই সাথে ফটোশপে বসে ছবি এডিটিং ও সাইট ডেভেলপমেন্টের কাজ করতে পারবেন। অবশ্য, লাইভ লিংক তৈরি না করলে ড্রিমওয়েভার সিএস ৪ বেটা পরিবর্তিত ছবি ধরতে পারবে না এবং আপনার পেজের ছবিও আপডেট হবে না।
ফ্ল্যাশ অবজেক্ট
আপনি যদি আপনার সাইটে ফ্ল্যাশ অবজেক্ট কিংবা Flex SWF ফাইল ব্যবহার করেন, তাহলে ড্রিমওয়েভার আপনার কাজকে আরো সহজ করে দিবে। কোন এইচটিএমএল/সিএসএস এডিটিংয়ের ঝামেলা ছাড়াই আপনি ড্রিমওয়েভার সিএস ৪ বেটাতে ব্যবহৃত জনপ্রিয় ওপেন সোর্স SWF ভিত্তিক কন্টেন্ট এমবেড করার SWFObject 2.0 । এর মাধ্যমে আপনি লাইভ প্রিভিউ মোডে আপনার ফ্ল্যাশ বা SWF ফাইল প্রিভিউ দেখার সুবিধা দেয়।
কোড হাইন্ট
শুধু জাভাস্ক্রিপ্ট নয়, ড্রিমওয়েভার সিএস ৪বেটার কোড হাইন্টিংয়ে আপনি হাইন্ট পাবেন ডি.ও.এম ফাংশনস কিংবা কাষ্টম জাভাস্ক্রিপ্ট কোডের জন্যও। নন-হার্ডকোডার কিংবা শিক্ষার্থী জাভাস্ক্রিপ্ট প্রোগ্রামারদের জন্য এটি একটি দারুণ সহায়ক ফিচার। প্রথম অক্ষর টাইপ করার সাথে সাথেই আপনাকে সমস্ত কোডের একটি তালিকা দেয়া হবে। শুধু এন্টার প্রেস করে সিলেক্ট করার অপেক্ষা। বেঁচে যাবে আপনার সময় ও শ্রম, দুটোই। এছাড়াও ভুল-চুক তো দূরেই রইল!

শুধু এতটুকুই নয়, ড্রিমওয়েভার সিএস ৪ বেটা সম্বন্ধে বিস্তারিত জানতে হলে আপনাকে সত্যিই যা করতে হবে, সেটা হচ্ছে এখান থেকে পরীক্ষামূলক সংস্করণটি ডাউনলোড করে ব্যবহার শুরু করা। যেহেতু বেটা তাই ডাউনলোড করার জন্য আপনাকে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। শুধুমাত্র নিজে ব্যবহার করলেই বুঝতে পারবেন কোড হাইন্ট, রিলেটেড ফাইলবার, ফটোশপ থেকে ছবি পেস্ট, লাইভ প্রিভিউ ইত্যাদি চমকপ্রদ সব ফিচারগুলো আপনার সময় ও শ্রমকে কীভাবে রক্ষা করে।
বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণঃ পরীক্ষামূলক সংস্করণ হিসেবে বাজারে আসা এডোবি ড্রিমওয়েভার সিএস ৪ বেটা সংস্করণে বাগ থাকাটাই স্বাভাবিক। এডোবি সিস্টেমস এই সংস্করণটি বাজারে ছেড়েছে মূলত ব্যবহারকারীর মন্তব্য তথা ফিডব্যাক, ও বাগ-টেস্টিংয়ের জন্য। এডোবি ডেভেলপারদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছে, গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বা সাইট ডেভেলপিং করতে হলে এডোবি সিএস ৪ এর সম্পূর্ণ সংস্করণ বাজারে আসার অপেক্ষা করতে কিংবা ড্রিমওয়েভার সিএস ৩ ব্যবহার করতে। কারণ, পরীক্ষামূলক সংস্করণে আপনার প্রকল্পের তথ্যাদি মিসিং হয়ে যাবার সম্ভাবনা রয়েই গেছে।





গ্রেইট টিউন। ড্রিমওয়েভার রকস ( আগে থেকেই )। আমিনুল রকস ( এখন থেকে )।
সিএস ৩ থেকে একদম আমূল পরিবর্তন। পুরো নেক্সট জেনারেশন।
দারুন এই খবরটি দেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ। আর একটি কথা এটা রিলিজ পাবে কবে? জানেন কিছু।
আমিনুল ভাই তো একের পর এক হিট টিউন লিখে যাইতেছেন। তবে আপনার এই টিউনটি আমার কাছে খুব বেশি ভাল লাগল। ওয়েব ডেভেলপার আর ডিজাইনারদের অনেক কাজে আসবে।
আমিনুল তো বসস্ …….. রকস …… আর কি বলুম ভাই?
খুব ভালো লিখেছ আমিনুল।
আমিনুল তো এই টিউনটা খুবই ভাল লিখেছ……
আরে ভাই এত প্রশংসা করতে নেই। পরে যদি আবার ভাল টিউন লিখতে না পারি তাহলে দোষ আপনাদের X(