দুরন্ত
প্রযুক্তিতেই মুক্তি

আশার আলো জ্বেলেছিল ব্রডব্যান্ড .. অথচ ..

broadband2 আশার আলো জ্বেলেছিল ব্রডব্যান্ড .. অথচ .. বেশ কয়েক বছর আগে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মাঝে ব্যাপক আশার আলো ছড়িয়ে ভিন্নমাত্রার ইন্টারনেটের স্বাদ জোগাতে এসেছিল ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট। কিন্তু নতুন আসা এ ইন্টারনেট পদ্ধতিটিও অল্প দিনের মাথায় কলুষিত হয়ে পড়ে মুনাফালোভী একদল বিবেকবর্জিত ব্যবসায়ী (ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার) নামের ‘বানিজ্য সন্ত্রাসী ‘ দের হাতে। গালভরা বুলি, আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনীয় ভাষা আর বিপনন কর্মীদের চাতুরতা এসব মিলিয়ে প্রথম দফাতেই ’ক্লায়েন্ট’ কে কুপোকাত করাই ছিল এদের প্রাথমিক কাজ। প্রাথমিক কাজ শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় দফাতে ‘সংযোগ ফি’ এবং মাসিক ফি বাবদ অগ্রিম টাকা বাগিয়ে নিতে এক মুহূর্তও দেরি করতো না এসব তথাকথিত ব্রডব্যান্ড সার্ভিস প্রোভাইডাররা। ভাবতে অবাক লাগে সেই ধারা আজও চলছে প্রশাসনের নাকের ডগায়। অথচ ভাবখানা এমন যে দেখার কেউ নেই!

এসব প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের ভাষায় লেখা থাকে মাত্র ৮০০-১০০০ টাকায় সারা মাস জুড়েই ব্যবহার করতে থাকুন সবচে’ দ্রুতগতি সম্পন্ন ইন্টারনেট। সার্বক্ষণিক ৩২-৬৪ কেবিপিএস ব্যান্ডওয়াইডথ। প্রতারণার কারিগরি দিকটির শুরু মূলত এখানেই। আসলে ৩২/৬৪ কেবিপিএস এর একটি লাইনকে ৩২/৬৪ জন ‘ক্লায়েন্ট’ এর মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছে তারা। এতে করে গ্রাহক প্রতি ১ কেবিপিএস বা তার চেয়ে কম স্পিড পাচ্ছেন একজন গ্রাহক। অথচ তার কম্পিউটারে নেটওয়ার্ক আইকনে স্পিড দেখাচ্ছে ১০ মে.বা.। এটিই তারা গোজামিল দিয়ে বোঝাচ্ছে ক্লায়েন্টদের যে তারা অনেক বেশি স্পিডি ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারছেন। যদি ১ কেবিপিএস বা তারচেয়ে কিছু বেশি পরিমাণ স্পিড পাওয়া যায় তাহলে কি তাকে আর ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট বলা চলে, এটিই এখন ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন।

কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন যে, সরকারের উচিৎ এ ধরণের ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে একটি নীতিমালা তৈরি করা । যাতে করে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা এ ধরনের যে কোন প্রতারণা থেকে রেহাই পেতে পারেন। তাছাড়া যারা এ ব্যবসার সাথে আছেন তারাও যাতে ব্যবসায়িক বৈধ সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন। সকল বিষয়াদি বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট সবাই আশু সমাধানের পথে এগিয়ে আসবেন, এটাই প্রত্যাশা।



১ টি মাত্র মন্তব্য করা হয়েছে

  1. ঠিক কথা। ক্লায়েন্টদের ধোঁকা দেয়ার জন্য তাদের (নন-টেকনিক্যাল) মার্কেটিং এক্সিকিউটিভদের সর্বপ্রথম যে (কু)শিক্ষা দেয়া হয় তা হল ইন্টারনেটের স্পীড নিয়ে ডাহাঁ মিথ্যা কথা বলা। এই ক্ষেত্রে তারা কিলোবাইট আর কিলোবিট এর হিসাবকে পূঁজি করে এক দূর্দান্ত রকম প্রতারনার আশ্রয় নেয়। এ নিষয়ে সরকার এর দৃষ্টি আকর্ষন করছি।

আপনার মন্তব্য দিন